বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরবে জাতিসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদন : গতকাল রবিবার সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রিভেনশন অব জেনোসাইড–বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবে জাতিসংঘ।তিনি আরও বলেন, ‘যদিও কিছু  দেশ এর বিরোধিতা করবে, তবু  মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করব।’

এছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন।অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ বলেন, জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ রাজ্য রাখাইনে পুনর্বাসিত হোক । জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল প্রায় ১০ লাখেরও অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনি রোহিঙ্গাদের জন্য আপনার দ্বার অবারিত করেছেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ জোরদারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান একা করতে পারবে না। তাই এই সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ আরও বাড়াতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন, যাতে করে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের মতো এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে ওঠে। 

উল্লেখ্য, অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ এ সময় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনজন নারী নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘আপনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক।’ অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁকে ‘শান্তির মানব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আর আপনি তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’ নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম ধর্মই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য সমগ্র দেশ ঘুরে বেড়িয়ে নানা ক্ষেত্রে নারীর অগ্রসরতার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। এর কারণ হিসেবে নারীশিক্ষার প্রতি তাঁর সরকারের গুরুত্ব প্রদানও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

chakdaha24x7
Author: chakdaha24x7