যে কারনে বাংলাদেশের শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হল

নিজস্ব প্রতিবেদন : ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের  এক গৌরবোজ্জ্বল দিন।বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। এই দিনটিকে বিশেষভাবে বাংলাদেশে  শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।  ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছিল পুলিশ  ৷ঐ দিনের ঘটনায় শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউল সহ অনেকেই। আর এই কারণেই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয় । তবে ছাত্রদের আন্দোলন ব্যর্থ হয় নি। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়।

১৯৫২ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় ‘শোক দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাদিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ থেকে শুরু করে  সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি গানের করুণ সুর বাজতে থাকে। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে শহীদ দিবস পরিণত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।সাল ১৯৯৮, এইসময়  কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে বসবাস করছিল  দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। তারাই প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রথম আবেদন জানিয়েছিলেন।

এরপর ১৯৯৯ সালের  ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে    প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করার   একটি প্রস্তাব রাখা হয়, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বাংলাদেশ। সেটি  সর্বসম্মতভাবে পাস হয়ে যায় । আর সেই থেকে সারা বিশ্ব ব্যাপী ২১ ফেব্রুয়ারির দিনেে মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয় ।