জেনে নিন বিতর্কিত রোদ্দুর রায়ের চিন্তাধারা ও মোক্সা আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদন: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলার  মোক্সা আন্দোলনের ধারক বিতর্কিত রোদ্দুর রায়।কেন এত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি ? আসলে রোদ্দুর রায় রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের গানের লাইনের সাথে অশ্লীল শব্দ দিয়ে গান করে ইউটিউবে আপলোড করেন ।তবে তার গান নেটদুনিয়া থেকে বেরিয়ে একসময়  সোজা ঢুকে পড়েছিল শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।সেই থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। এরপর রবীন্দ্রভারতীতে বসন্ত উৎসবে  যুবতীদের খোলা পিঠে লেখা রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের একটি গানের লাইনে আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ  নিয়ে  প্রশ্ন ওঠে। সোজাসুজি আঙুল তোলা হয় রোদ্দুর রায়ের দিকে।

তবে রোদ্দুর রায় মনে করেন, সমস্ত শব্দের অর্থ মানুষের তৈরী ।তাই প্রকৃত অর্থে ভাষা অশ্লীল হতে পারে না, বরং তার কাছে অশ্লীল হল খুন করা, প্রতারণা করা, শ্রেণী শোষণ ইত্যাদি।গতকাল একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “মুক্তি, প্রেম ও শান্তি”। সে কথা বলা হলো লাখ লাখ বার, আর একবার শুধু বলা হলো ‘বাঁ**’। একটি ডোপ কমেডিতে একটি চরিত্র বললো, একটি নাটকে। বলা হলো এই লোকটি বলেছে, অর্থাৎ আমরা শিল্প ও শিল্পী গুলিয়ে ফেললাম। অসাধারণ ব্যাপার। এবারে গুলিয়ে ফেলার পরে, সেই শব্দ দিয়ে ইউটিউবে গুচ্ছ গুচ্ছ গান, ট্রল , ভিডিও তৈরি হলো, বলা হলো এই লোকটা করছে। কেউ সেসব পিঠে লিখলো, কেউ সেসব নানান জায়গায় গাইলো, বলা হলো লোকটার প্ররোচনায়। কেন? কে কাকে প্ররোচনা দিচ্ছে? “মুক্তি, প্রেম, শান্তি” দশ হাজার বার বলার পরেও কেউ “মুক্তি, প্রেম, শান্তি” বললো না। বললো সেই শব্দ। 

তিনি আরও বলেন, আঠারো বছরের একটি তরুনী যখন তার পিঠে সেই শব্দ লিখছে , আসলে একটি সোসাইটির কাছ থেকে বারবার সে সেটা শুনেছে, তিনি যদি পিঠে সেই শব্দ লিখে আনন্দ করেন, উল্লাস করেন, বিদ্রোহ করেন সেটা খুব স্বাভাবিক বিষয়।মুক্তি , শান্তি, প্রেম তিনি শোনেন নি। তিনি যদি মুক্তি, শান্তি, প্রেম দেখতেন তাহলে তিনি তাই লিখতেন।সমাজ মুক্তি, প্রেম ও শান্তির জায়গায় নেই। তিনি প্রশ্ন করেন তাহলে সেই জায়গাটা কে করে দেবে ? তার মতে সেই পরিবেশ এনে দেবে ভবঘুরেরা। কেননা তারা একটি শ্রেনীতে ঢুকে যায় নি, তারা শ্রেনী বৈষম্যে বিশ্বাস করে না, তাদেরই দায় ঠেকেছে সমাজের জন্য, শুধু তাদেরই সমাজের জন্য ভালোবাসা জেগেছে।পাশাপাশি তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথে নাম করে নিজেকে অন্য শ্রেনীতে অন্তর্ভূক্ত করে এই সমবন্টন সম্ভব নয়।

এমনকি রোদ্দুর রায় তার প্রত্যেকটি ভিডিওতেই মোক্সা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।তার এই মোক্সা আন্দোলনে বিশ্বাসী নেটিজেনদের সংখ্যাটাও কম নয়। আসলে তিনি ‘মোক্সা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট’, ‘মোক্সা রেডিও’ ইত্যাদির সাথে  জড়িত। তবে শুরুটা করেছিলেন মোক্সা সঙ্গীত দিয়ে।আর সেই থেকে শুরু রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন নিয়ে তার মোক্সা সঙ্গীত। প্রথাগত ধারণা, বিশ্বাস, বিধি, গণ্ডি পেরিয়ে নিজের মতো করে পরিবেশন করা গানই ‘মোক্সা সঙ্গীত। মোক্সা কথাটির অর্থ স্বাধীনতা। তিনি এই মোক্সা আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাজের মানুষের কাছে পৌছে দিতে চান স্বাধীনতা,ভালোবাসা, শান্তির বার্তা।তিনি মনে করেন ইনস্টিটিউশন  ক্রীতদাস বানানোর জন্য তৈরি হয়েছে। ইনস্টিটিউশন সবসময়ে চেয়েছে কিছু মানুষকে ক্রীতদাস বানাতে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করি। এই অর্থে নয় যে প্রতিষ্ঠানে বোম মারো, এই অর্থে যে মানবতাকে মুক্ত করতে দাও। 

 
0