রাজনৈতিক কারণে শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার

নিজস্ব প্রতিবেদন : মহানায়ক উত্তমকুমার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এমন একটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছিলেন যাতে তাঁকে  কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল৷ এমনই পরিস্থিতি যে, তিনি মুখ খুলতেই পারেননি, এমনকি বাধ্য হয়েছিলেন কলকাতা ছেড়ে রাজ্যের বাইরে গিয়ে কিছুদিন থাকতে ৷ তখন কংগ্রেসের একনায়কতন্ত্র মনোভাব হোক বা রাজনৈতিক চাপে তার সেই ভুবন ভোলানো  হাসিটাই যেন  উবে গিয়েছিল৷

সালটা ছিল১৯৭১ ,  রাজ্যে তখন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমল৷নকশাল দমনের জন্য কুখ্যাত ছিলেন তিনি।সেসময় কোনও রকম গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই  সন্দেহভাজন মনে হলেও পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেত লোকেদের৷ আর তারপর তাদের ময়দানে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত৷ পুলিশ ভ্যান থেকে নেমে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলেই পিছন থেকে তাদের গুলি করে মারা হত৷ বলা হত ওরা পালানোর চেষ্টা করায় বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে৷ সাধারণত ভোরেই দিকে ফাঁকা জায়গাই বেছে নেওয়া হত এমন কুকর্ম সম্পাদনের জন্য ৷

এমনই একদিন ১৯৭১ সালের ৫ অগস্ট ভোরে ময়দানে পুলিশ গুলি করে মেরেছিল নকশাল নেতা তথা কবি সরোজ দত্তকে৷ শোনা যায় ঠিক ওই সময় সেখানে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন উত্তমকুমার৷ তাঁর চোখের সামনে এমন নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড ঘটায় তিনি ভীষণ ট্রমার মধ্যে ছিলেন ৷সরোজ দত্তের হত্যাকান্ড চোখের সামনে দেখে উত্তমকুমারও ভয় পেয়েছিলেন বলেই মনে হয় ৷ শোনা যায় তারপর তিনি নাকি প্রাতঃভ্রমণ বন্ধ করে দেন৷ পর পর কয়েকদিন শুটিংয়েও যেতে পারেননি৷ এমনকি তিনি কিছুদিনের জন্য  রাজ্যের বাইরে চলে যান৷