জেনে নিন নবদ্বীপের পাশাপাশি কেন চাকদহকে আধ্যাত্মিকতার শহর বলা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদন : নদীয়া জেলায় আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে নবদ্বীপের পাশাপাশি চাকদহ শহরেরও  গুরুত্ব অপরিসীম।এই শহরের নামেই রয়েছে আধ্যাত্মিকতা।চাকদহ  নদীয়ার একটি প্রাচীন জনপদ। পুরাণে কথিত আছে, ভাগীরথী নদী (গঙ্গা) আনয়নকালে প্রচন্ড বর্ষনের কারনে ভগীরথের রথের চাকা এখানে বসে যায়। তিনি সেই চাকা টেনে তোলেন, ফলে কার্যত প্রকান্ড গর্তের সৃষ্টি হয়।তা হ্রদের আকার ধারণ করে। সেই থেকে এই জায়গার নাম হয় চক্রহ্রদ। চক্রহ্রদ থেকে ‘চক্রদহ’ কালক্রমে তা চাকদহ তে পরিনত হয়েছে।

হয়তো পুরাণে কথিত এই কাহিনীকে অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। তাহলে আসুন ইতিহাসের পাতা উল্টানো যাক, আপনারা অনেকেই চাকদহ জগন্নাথ মন্দিরের নাম শুনেছেন। তবে আপনি জানেন কি এই মন্দির ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো।আপনাদের মধ্যে অনেকেরই জানা নেই চাকদহে যে জগন্নাথ মূর্তিটি রয়েছে তা পুরির জগন্নাথ মূর্তি।তবে মুর্তিটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মায়াপুরে।কিন্তু স্বয়ং জগন্নাথ দেবের ইচ্ছায় মূর্তিটি স্থান করে নেয় চাকদহ য্শড়ায়।জানা যায়, একসময় চৈতন্য দেব জগদীশ পন্ডিতকে পুরি যাওয়ার নির্দেশ দেন।পুরিতে থাকা কালীন তিনি স্বপ্নে জগন্নাথ দেবকে দেখেন।জগন্নাথের দেখা পেয়ে তিনি কাঁদতে শুরু করেন, তখন জগন্নাথ দেব বলেন  পুরির মন্দিরে নিচে রাখা তার বিগ্রহ যেন জগদীশ পন্ডিত তার সঙ্গে করে মায়াপুরে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রত্যেক নব কলেবরে পুরির মন্দিরের জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ পরিবর্তন করে নতুন জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিস্থাপন করা হয়।আর পুরনো বিগ্রহ মন্দিরের নীচে রাখা হয়।জগদীশ পন্ডিতকে সেই পুরনো বিগ্রহ পুরি থেকে মায়াপুরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশের কথা স্বপ্নে বলেছিলেন স্বয়ং জগন্নাথ দেব।এই প্রসঙ্গে শ্রীলা ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাঁর লেখা বইতে বলেছেন, জগদীশ পন্ডিত সেই জগন্নাথ বিগ্রহকে একটি বড় লাঠির সাথে বেঁধে পুরি থেকে বাংলায় নিয়ে আসছিলেন।তবে বিগ্রহটি এত ভারী ছিল যে তা জগদীশ পন্ডিত্দের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না।কিন্তু স্বয়ং জগন্নাথ দেবের কৃপায় বিগ্রহ বা মূর্তিটি অনেক হাল্কা হয়ে যায়।

এইভাবে পথ চলতে চলতে জগদীশ পন্ডিত যখন খুব সকালে চাকদহে যশড়ার কাছে গঙ্গার ধারে এসে উপস্থিত হন । এখানে বলা বাহুল্যে সেই সময় জগন্নাথ মন্দিরের খুব কাছেই চাকদহ গঙ্গার অবস্থান ছিল।জগদীশ পন্ডিত পথ চলতে চলতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল যে তিনি গঙ্গাতে স্নান করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই উদ্দেশ্য তিনি জগন্নাথ দেবের বিগ্রহটি বটগাছের নীচে একটি স্থানে রাখেন এবং স্নান করতে যান। তবে ফিরে এসে দেখেন জগন্নাথ দেবের বিগ্রহটি এতটাই ভারী হয়ে গেছে যে তাঁর পক্ষে সেই বিগ্রহটি বহন করে মায়াপুরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।তখন জগদীশ পন্ডিত স্বয়ং ভগবানেরই ইচ্ছা বুঝতে পেরে সেই স্থানে বটগাছের নীচে বিগ্রহটির পূজা-অর্চনা করেন এবং সেইখানে বসবাস শুরু করেন।এরপর এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

পরবর্তীকালে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় যশড়ায় ৫০০ বিঘা জমি দান করেন এবং সেখানেই জগন্নাথের মন্দির নির্মান করেন।শুধুমাত্র মন্দির নয়, আরও একটি কারনে চাকদহকে আধ্যাত্মিকতার পীঠস্থান বলা যেতে পারে।স্বয়ং চৈতন্য মহাপ্রভু এই চাকদহের মাটিকে পবিত্র করে গেছেন। মন্দির ও জগন্নাথ বিগ্রহ দর্শনে স্বয়ং  শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভু দুবার চাকদহের মাটিতে পা রেখেছিলেন।এমনকি সন্ন্যাস নিয়ে  শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নদীয়া ছেড়ে পুরিতে যাওয়ার আগে জগদীশ পন্ডিতের স্ত্রী শ্রীমতি দুঃখিনীর সাথে দেখা করেন।মহাপ্রভুর নদীয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার কারনে তিনি এতটা কষ্ট পান যে তাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য চৈতন্যদেব তাকে গৌর গোপালের একটি বিগ্রহ উপহার দেন।সেই বিগ্রহ আজও চাকদহ জগন্নাথ মন্দিরে রাখা আছে।

 
0

You may Like this:

অবিশ্বাস্য!চাকদহ মুকুন্দ নগরে হঠাৎ দেখা গেল এলিয়েন স্পেসক্রাফট
করোনা ভাইরাসের প্রভাব চাকদহে, আতঙ্কে সচেতন শহরবাসী
বুড়ি গঙ্গা ব্রিজে ফেলে রাখা বৃদ্ধার দায়িত্ব নিল অভিযান এসোসিয়েশন
নামের পরিচিতি থাকলেও বিগত কয়েক দশকেও চাকদহে তেমন উন্নয়ন হয় নি
ধুতি পরে ক্রিকেট মাঠে পুরোহিতরা, এই মুহূর্তের সাক্ষী থাকল আধ্যাত্মিক শহর!
রাত থেকে শীতের দাপট, চাকদহে তাপমাত্রা নামতে পারে ১২ডিগ্রির নীচে
চাকদহে ছিনতাইবাজের বাড়বাড়ন্ত , ছিনতাই হল এক মহিলার ব্যাগ
বিয়ের ১০ মাসের মধ্যে চাকদহ পালপাড়ায় গৃহবধূ খুন! পলাতক পরিবার
জেনে নিন, কিভাবে চাকদহ আজগুবি তলার নামকরন হয়েছে ?
চাকদহ খেদাই তলার মনসা পূজা ও মেলা সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য