শীতলকুচিতে গিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যপাল ধনখড়

শীতলকুচিতে গিয়েই রাজ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন রাজ্যপাল ধনখড়। চরম বিতর্কের মধ্যেই শীতলকুচিতে আজ মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।  কোচবিহারে পা রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন ধনখড়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উদ্দেশে তাঁর তোপ, ‘‘কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ সংবিধানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’’ প্রসঙ্গত তাঁর শীতলকুচিতে যাওয়া নিয়ে সংবিধান বিরোধী কাজ করছেন বলে তাঁকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। যার পাল্টা জবাব দিয়ে তাঁকে চিঠি লেখেন রাজ্যপাল। বেলা সাড়ে ১২ টার কিছু পরে বিএসএফের কপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন ধনখড়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, শীতলখুচির বিধায়ক বরেনচন্দ্র বর্মণ এবং মাথাভাঙার বিধায়ক সুশীল বর্মণ। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ধনখড় থবলেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির জবাব দিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তার আগে সংবাদমাধ্যমে তা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নিজের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। আমি বলেছি, কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ সংবিধানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইতিহাস আমাদের বিচার করবে। ইতিহাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, দেশের আমলাতন্ত্র এবং সংবাদমাধ্যমের বিচার করবে।’’

এরপর ভোট পরবর্তী হিংসা দমনে রাজ্যের প্রশংসা করে হাইকোর্টের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলে তিনি বলেন ‘‘উচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছে। কিন্তু আমি ক্লিনচিট দেওয়ার মতো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমিও তদন্ত করে দেখলাম। কিন্তু বুঝতে পারছি না কী হল। আমি উচ্চ আদালতকে সম্মান করি। তবে যখন রায় ঘোষণা হবে তখন সকলে জানতে পারবেন।’’ এরপরেই তাঁর সংযোজন ‘‘বাধা এলেও আমি প্রভাবিত হব না। দেশের সামনে করোনার সঙ্কট করোনার। আবার পশ্চিমবঙ্গে করোনার সঙ্গে রয়েছে অন্য সঙ্কট— ভোট পরবর্তী হিংসা। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সহযোগিতার কথা বলেছি। আমার একটাই বিচার, গণতন্ত্রে যেন কুঠারাঘাত না হয়। যারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে তারা যেন শাস্তি পায়। কিন্তু সরকারের তরফে এমন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল রাজভবনে বসে থাকবেন এমনটা হতে পারে না।’’ তিনি আরও বলেন ‘‘আমি আগামিকাল অসম যাচ্ছি। ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকেই অসমে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আমি বার্তা দিতে চাই, আপনারা পশ্চিমবঙ্গে আসুন। সে জন্য যদি আমাকে বুকে গুলি খেতে হয় তাও খাব।’’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধনগর আরও বলেন, ‘‘এখানে একটাই কথা শোনা যাচ্ছে, ‘আমরা ঝান্ডাও লাগিয়েছি তাও বাঁচতে পারছি না কেন? আমাদের খুব ভুল হয়ে গিয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে শ্বাস নিতে চাই।’ ওরা বলছে, ‘প্রশাসনের কেউ আসেনি। পুলিশে গেলে বরবাদ হয়ে যাব’। আমার মনে হচ্ছে, এখানে পুলিশ এবং প্রশাসনের হৃদয় নেই। আইনের শাসন নেই। ঘরে-বাইরে আতঙ্ক, সন্ত্রাসের বাতাবরণ। আমার নিজের উপর লজ্জা হচ্ছে। দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলি কী করছে! ওরা কি দেখতে পায় না?’’

হ্যাঁ, আমি অনুদান দিতে ইচ্ছুক

    You May Like this Article
 

You May Like

ঠাঁই নেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, রাজ্য যুব মোর্চার পদ থেকে ইস্তফা সৌমিত্রর
হোয়াটসঅ্যাপ এর বার্তা ফাঁস করে ষড়যন্ত্রর প্রমাণ দিলেন দেবাংশু !
‘রাজ ভবনে কেন দেবাঞ্জনের দেহরক্ষী?’রাজ্যপালের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তোপ তৃণমূলের
১৫০টির বেশি পরিবারের হাতে ত্রান তুলে দিলেন শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি
পাগল ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে কেউ বিশ্বাস করেননা - মমতাকে ফের আক্রমণ দিলীপের
‘কালো কুকুর চিৎকার করে’, ধনখড় প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য মদন মিত্রের
"কে সুজাতা? কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই। পাগলের মত সবসময় বকে যায়।"-বৈশাখী
‘আমরা কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারছিনা, তাই দল ছেড়ে যাচ্ছে’ : দিলীপ
কালিয়াচক কাণ্ডে নয়া মোড়! ক্রমশ রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে
বাংলায় চাকরি নেই, তাই মানুষ গুজরাত-মহারাষ্ট্রে ছুটছে: দিলীপ