চাকদহ নামের সৃষ্টি নিয়ে সংঘাত, পুরাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিমত

নিজস্ব প্রতিবেদন : চাকদহ নামের সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত আছে।পুরাণ অনুযায়ী কিভাবে চাকদহের সৃষ্টি তা অনেকেরই জানা।পুরাণে কথিত আছে, ভাগীরথী নদী (গঙ্গা) আনয়নকালে প্রচন্ড বর্ষনের কারনে ভগীরথের রথের চাকা এখানে বসে যায়। তিনি সেই চাকা টেনে তোলেন, ফলে কার্যত প্রকান্ড গর্তের সৃষ্টি হয়।তা হ্রদের আকার ধারণ করে। সেই থেকে এই জায়গার নাম হয় চক্রহ্রদ। চক্রহ্রদ থেকে ‘চক্রদহ’ কালক্রমে তা চাকদহ তে পরিনত হয়েছে।তবে বিনয় ঘোষ এ বিষয়ে একটু ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁর অভিমত, আর্য অনার্যের সংঘাতের স্মৃতিবাহী অথবা চক্রাকারে স্রোতবহুল গঙ্গার দহের জন্য এখানকার নাম চক্রদহ বা চাকদহ হতে পারে ।

অপরদিকে কথিত আছে, শ্রীকৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন সম্বাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন তার রথের চাকা ধরিত্রী গ্রাস করে।ফলে এখানে বিশাল দহের সৃষ্টি হয়।এই দহ থেকে এই এলাকার নাম চক্রদহ এবং আধুনিক নাম চাকদহ।।লোকশ্রুতি রয়েছে যে, শ্রীকৃষ্ণপুত্র প্রদ্যুম্ন সম্বাসুরকে হত্যা করার পর এই জায়গার নাম রাখা হয় প্রদ্যুম্ননগর।এছাড়াও অপর একটি জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, প্রদ্যুম্ন চক্রতীর্থে সিদ্ধিলাভ করেন এবং নিজের নামে একটি নগর স্থাপন করেন।এই জনশ্রুতি দাবি করে, পালপাড়ার সুপ্রাচীন চৌচালা মন্দিরটি নাকি তাঁরই নির্মিত।

নদীয়া জেলে ইতিহাস বিশেষ মোহিত রায়ের বক্তব্য, প্রদ্যুম্ন নগরের আগে এই জায়গার নাম ছিল ঋক্ষবন্ত নগর। তবে ঘটককারিকা অনুযায়ী চাকদহের পুরাতন নাম আচম্বিতা।ঋক্ষবন্ত নগর নামটির উল্লেখ না পাওয়া গেলেও প্রাচীন দলিলপত্রে প্রদ্যুম্ন নগর ও আচম্বিতা নামের উল্লেখ পাওয়া গেছে।গবেষক নিহার রঞ্জন রায়ের অভিমত, চাকদহের ‘দহ’ শব্দটি কোল গোষ্ঠীভুক্ত ( অস্ট্রিক+দ্রাবিড় ) শব্দ।তাঁর মতে এই কোল গোষ্ঠীভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন সাঁওতাল,ওরাঁও, মুন্ডা, শবর ,লোধা প্রভৃতি চাকদহের সবথেকে পুরাতন বাসিন্দা।

chakdaha24x7
Author: chakdaha24x7