বাংলাদেশে অত্যাচারিত হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ, ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ মহিলার

নিজস্ব প্রতিবেদন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড  ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উপর নির্যাতনের কাহিনি তুলে ধরেছেন এক মহিলা।তাঁর অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ইসলামিক চরমপন্থীদের হামলা হচ্ছে। তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। সেই কথোপকথনের ভিডিও সামনে আসতেই  আলোড়িত বাংলাদেশ।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মহিলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সেদেশের সংখ্যাগুরু বহু মুসলিম।এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।বর্তমানে তিনি রয়েছেন মার্কিন মুলুকে।

ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে মহিলাকে মিসেস সাহা বলে সম্বোধন করতে শোনা গেছে, তার পুরো নাম বলা হয়নি।তবে বাংলাদেশের সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ পেয়েছে এই মহিলার পরিচয়।সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, এই মহিলার নাম প্রিয়া সাহা।তাঁর স্বামী মলয় সাহা বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের অন্যতম অফিসার। প্রিয়া নিজে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

তবে প্রশ্ন, কিভাবে এই মহিলা নালিশ জানাতে পৌঁছে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ? জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চিন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তারা। ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন এক মহিলা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বিতাড়িত হয়েছেন। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

এরপর ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, ‘বাংলাদেশ?’ তখন হ্যাঁ বলেন প্রিয়া সাহা  নামে ওই মহিলা। তিনি জানান, ‘এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনও বিচার হয়নি।’